ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি অবস্থায় নাম পরিবর্তনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
বিলুপ্ত নাগরিক কমিটির সাবেক সদস্য নীলা ইসরাফিল জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ভাষায়, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় ভর্তি থাকাকালীন আমার স্বামীর নামের জায়গায় নিজের নাম বসিয়ে দেন সারোয়ার তুষার।”
নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে নীলা জানান, সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং তখন তাঁর নাম, পরিচয় ও জীবনের সিদ্ধান্তের উপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সেই সুযোগেই তাঁর পারিবারিক নথিতে পরিবর্তন আনা হয়। তাঁর দাবি, এটি কোনো ভুল নয়, বরং আইনগতভাবে জালিয়াতি।
নীলার মতে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নথি মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি ও ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করাও দণ্ডনীয়। তিনি আরও বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়া আমার পারিবারিক পরিচয় বিকৃত করা মানে শুধু সামাজিক সম্মানকে আঘাত করা নয়, এটি আমার মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের (UDHR) ৩, ৫, ১২ ও ২২ নং ধারায় ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা ও আইনি নিরাপত্তার যে অধিকার সুরক্ষিত, তা লঙ্ঘিত হয়েছে। হাসপাতালের নথিতে থাকা এই তথ্য ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় নীলা ইসরাফিল দ্রুত তদন্ত শুরু করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকৃত তথ্য পুনঃস্থাপন এবং রোগীর অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু আমার লড়াই নয়, এটা প্রতিটি মানুষের নিজের পরিচয়, মর্যাদা ও অধিকারের জন্য লড়াই।”
সর্বশেষ আপডেট: হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
প্রশ্ন রইল—ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষায় আইনের প্রয়োগ কি পর্যাপ্ত ও কার্যকরভাবে হচ্ছে?
