ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়কে হত্যা ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অসুস্থ মেয়ের জন্য ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খাবার আর হাতে নিয়ে ফেরা হলো না। দখলদার বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালান। স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) খান ইউনিসে তিনি নিহত হন।
সালানের মেয়ে মরিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও রক্তজনিত জটিল রোগে ভুগছিল। তাই মেয়ের জন্য খাবারের পাশাপাশি ওষুধ সংগ্রহেও মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।
‘ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত সালান
ফিলিস্তিনের ক্রীড়া জগতে মোহাম্মদ সালান ছিলেন এক পরিচিত মুখ। ‘ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত এই বাস্কেটবল তারকা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর গৌরবও অর্জন করেছিলেন।
এর আগেও প্রাণ হারান ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ
কেবল সালান নন, এর আগে কয়েকদিন আগে জাতীয় ফুটবল দলের তারকা সুলেইমান আল-ওবেইদও একইভাবে নিহত হন। ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ খ্যাত আল-ওবেইদ একটি ত্রাণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলির শিকার হন। তার হত্যার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮০০-র বেশি ক্রীড়াবিদও আছেন। খাদ্য সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসা সঙ্কটে তারা সাধারণ মানুষের মতোই দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গত বছরের নভেম্বর মাসে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োহাভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
প্রশ্ন থেকে যায়—ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের মতো ক্রীড়াবিদরাও যখন একে একে প্রাণ হারাচ্ছেন, তখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গন কতটা সরব হয়ে উঠবে?
