চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ মেটাতে দিল্লির বৈঠকে কী আলোচনা হলো?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে চীন ও ভারত বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠকের পর ঘোষণা এসেছে—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসের শেষের দিকে চীন সফরে যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৈঠকেও যোগ দেবেন। গত সাত বছরে এটাই হবে তার প্রথম চীন সফর।
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বৈঠক
মঙ্গলবার দিল্লিতে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের ২৪তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। বৈঠকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী ও কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অজিত দোভাল বৈঠকে বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় আছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।”
ওয়াং ই মন্তব্য করেন, “সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। ইতিহাস ও বাস্তবতাই প্রমাণ করে, ভারত-চীনের সুসম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে।”
মোদির চীন সফর
ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আনন্দিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতাকে সম্মান জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাচ্ছে।”
চীন সফরের সময় তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তবে সফরের গুরুত্ব বাড়ছে কারণ লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পরও সীমান্ত বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি এবং পাকিস্তানকে ঘিরে চীনের অবস্থান নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।
বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা
দুই দেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে বাণিজ্য শুরু হতে পারে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষণ
চীন-ভারতের এই ইতিবাচক অগ্রগতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন দিক তৈরি করতে পারে। তবে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে চীনের অবস্থান ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
প্রশ্ন রয়ে যায়—সীমান্ত সংঘাতের ইতিহাস পেরিয়ে কি সত্যিই ভারত ও চীন দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি গড়তে পারবে?
