বাবুগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু নিহত
বরিশালের বাবুগঞ্জে বন্ধুত্বের সম্পর্কে দেখা দিল ভয়াবহ পরিণতি। ধার করা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিজ বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়াসিন নামে এক তরুণ মোটর মেকানিক। দীর্ঘ সাতদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত তিনি আর বাঁচতে পারলেন না।
নিহত ইয়াসিন বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় কলেজগেট এলাকায় একটি দোকানে মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসামি লিমন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মোটরসাইকেল কেনার জন্য ইয়াসিনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন লিমন। তবে টাকা ফেরত না দেওয়ায় লিমনের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন ইয়াসিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে।
ঘটনার দিন লিমন ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে নদীর পাড়ে ইয়াসিনকে মারধর করেন। পরে রাতে আবার কয়েকজনের সহযোগিতায় রাস্তায় আটক করে ছুরিকাঘাত করেন লিমন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থা অবনতি হলে ঢামেকে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ইয়াসিনের।
নিহতের বাবা মানিক হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন— “আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের নানা প্রকার হুমকি দিয়ে মিমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি মিমাংসা চাই না, আমি ন্যায্য বিচার চাই।”
এদিকে, এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধার-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রশ্ন থেকেই যায়—বন্ধুত্বের সম্পর্ক কত সহজেই ভাঙতে পারে স্বার্থের কারণে? এমন ঘটনাগুলো প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কতটা জরুরি বলে মনে করেন আপনি?
