ঢাবির ছয় শিক্ষার্থী পেলেন মর্যাদাপূর্ণ চীনা সরকারি বৃত্তি

উচ্চশিক্ষার অনন্য সুযোগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছয়জন শিক্ষার্থী। তাঁরা চীনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক ও সর্বাধিক সুবিধাসম্পন্ন সরকারি বৃত্তি অর্জন করেছেন। মনোনীতদের মধ্যে পাঁচজন এ-টাইপ এবং একজন বি-টাইপ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তারা চীনের চারটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। মনোনীতদের মধ্যে সোহেল হোসাইন ‘ট্রান্সলেশন স্টাডিজ’ এবং মো. রেদোয়ান মেহবুব ‘সিনোলজি’ বিষয়ে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। মারজীয়া আক্তার মীম ও তাহমিনা আক্তার ভর্তি হয়েছেন বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তাঁরা “টিচিং চাইনিজ টু স্পিকার্স অব আদার ল্যাংগুয়েজেস” বিষয়ে পড়াশোনা করবেন। এছাড়া তানজিয়া সাইমুন যাবেন শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চাইনিজ ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ’-এ এবং মো. মারজুল ইসলাম ভর্তি হয়েছেন চিনান বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চাইনিজ স্টাডিজ’ বিভাগে।

তাঁদের কোর্সের মেয়াদ দুই থেকে তিন বছর। বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের সকল ব্যয়ভার বহন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা, প্রাতিষ্ঠানিক ফি এবং মাসিক তিন হাজার ইউয়ান ভাতা (প্রায় ৫০ হাজার টাকা সমমূল্য)। এমনকি বিমান টিকিটও সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর তাঁরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

এর আগে গত শিক্ষাবর্ষেও একই বিভাগ থেকে আরও তিন শিক্ষার্থী একই সুযোগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা বেইজিং, লানচৌ ও নর্থওয়েস্ট নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অধ্যয়ন করছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত আসনে এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের সুযোগ রাখা হয়। আবেদনকারীরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ছাড়াও রয়েছে স্বল্পমেয়াদি “জুনিয়র স্কলার্স” ও “সিনিয়র স্কলার্স” কোর্স। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে—এত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বৃত্তি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে? আপনার কী মতামত?

Next News Previous News