ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহর ডাক: ইতিহাস পুনর্লিখন ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আহ্বান

রাজধানীর বসুন্ধরায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ইসলামিক কনফারেন্সে বক্তারা জোর দিয়েছেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ইসলামের বিশ্বায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক বক্তা বলেন, “ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহ গঠনের মাধ্যমে ইসলামের বিশ্বায়নের জন্য নতুন করে ইতিহাস গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লব করতে হবে।”

তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস লেখকরা হিন্দু নয়তো ব্রিটিশ। অন্যতম একজন লেখক আরসি মজুমদারের রচনা মুসলিমবিরোধী। প্রকৃত ইতিহাস পুনর্লিখন না হলে পরবর্তী প্রজন্ম মুসলমানদের ইতিহাস জানতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাস পড়তে হবে, নইলে বিশ্বায়নের ভূ-রাজনীতি বোঝা সম্ভব হবে না।

মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মুসলমান হলেও তারা নির্যাতিত হচ্ছে, শাসিত হচ্ছে—কারণ ঐক্য নেই। গাজায় গণহত্যা হলেও মুসলমানরা কিছুই করতে পারছে না।”

কনফারেন্সে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান আজহারী রাসুল (সা.)-এর ১২টি মানসিকতার দিক তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, “রাসুলের অন্যতম মানসিকতা ছিল সংস্কার। বর্তমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাসুলের মদিনা চার্টার ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক চার্টার, যা নতুন বাংলাদেশ গঠনে দিকনির্দেশক হতে পারে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামকে ভীতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে এ প্রচারণা চালানো হয়েছে। এখন রাষ্ট্র ও সমাজে ইসলামভীতি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের দেশে ইসলামোফোবিয়ার আর স্থান থাকবে না। একইসঙ্গে উগ্রবাদকেও স্থান দেওয়া হবে না, সংখ্যালঘুরা যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে সে দায়িত্বও নিতে হবে।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

গাজার চলমান মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যহীনতার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে মুসলমানদের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সম্মেলনগুলোতেও ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠের অভাব সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রশ্ন রইল: মুসলিম বিশ্বের এই বিভক্তি কাটিয়ে উঠতে কি সত্যিই সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও ইতিহাস পুনর্লিখন জরুরি হয়ে উঠেছে?

Next News Previous News