বাবরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন গুঞ্জন

বহুল আলোচিত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারামুক্ত হয়ে ফিরেছেন রাজনীতির মঞ্চে, তবে এবার যেন ভিন্ন এক বাস্তবতায়। এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতাকে ঘিরে ফের নানান গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

তার অনন্য হেয়ারস্টাইল, নিজস্ব ভাষা ও বাংলিশ উচ্চারণ, আর সেই বিখ্যাত উক্তি—“উই আর লুকিং ফর শত্রুজ”—রাজনীতিতে তাকে করে তুলেছিলো বিশেষ পরিচিত। দেশপ্রেম ও ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠলেও, বিশ্লেষকদের মতে এই জনপ্রিয়তাই তার জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের কারাভোগ শেষে জানুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। নিজ এলাকায় ফিরে পান অভূতপূর্ব সংবর্ধনা, তবে দলীয় পদ-পদবিতে তার কোনো নাম নেই। সভা, সমাবেশ কিংবা গণমাধ্যম—কোথাও নেই তার উপস্থিতি। রাজনৈতিক অঙ্গণে এখন তিনি যেন এক রহস্যের আবরণে ঢাকা নীরব চরিত্র।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ব্যবসায়ী পরিচয় থেকে। মাস্টার ইলেক্ট্রনিকস ও কেসিও ঘড়ির ডিলার থেকে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে, পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দ্রুত উত্থান। ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা-৪ আসনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি। পরবর্তী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে আসীন হন, যেখানে তিনি এককভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতেন।

২০০৪ সালের চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে আলোচনায় আসেন, যা ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে গ্রেফতার হন, একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পান। অবশেষে আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পান।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রশ্ন উঠছে—দলীয় হাই কমান্ডের ভেতরে কি তার জনপ্রিয়তা নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে? তার ভাষায়, “আমাকে আমার নিজের দলের মধ্যেই অবজ্ঞা করা হচ্ছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তিনি নাকি বিএনপি ছেড়ে অন্য দলে যাচ্ছেন। যদিও এ নিয়ে কোনো প্রমাণ মেলেনি। নেত্রকোনাবাসীর বিশ্বাস, তিনি যে দলের প্রার্থী হোন না কেন, তার জয়ের সম্ভাবনা অটুট।

প্রশ্ন রইল—জনপ্রিয়তা কি কখনো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?

Next News Previous News