রাজনীতিতে আসছেন না প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার এগিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ কিংবা নিজে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। সাম্প্রতিক এক বিদেশ সফরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, “না, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে, আমি সেই লোক নই।”

প্রধান উপদেষ্টার মতে, বর্তমানে তাঁর মূল কাজ হলো সংস্কারের লক্ষ্য পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া। তিনি জানান, গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগস্টে প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে সরকার। তাঁর ভাষায়, “আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি।”

অর্জনের মধ্যে অন্যতম হলো ‘ঐকমত্য কমিশন’ গঠন, যা ১১টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কারের প্রতিবেদন এ মাসের শেষের দিকে প্রকাশ পেতে পারে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্ব রাজনৈতিক স্পর্শকাতর বিষয়েও সমঝোতা তৈরি করা। সংসদ এককক্ষ বিশিষ্ট নাকি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট হবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক মেটাতে এই কমিশন কাজ করছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে দেশ এখন সঠিক পথে রয়েছে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। এবারের নির্বাচন অতীতের তিনটি ‘অকার্যকর’ নির্বাচনের চেয়ে অনেক ভালো হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ভাষায়, “অনেক বছর পর প্রথমবারের মতো, জনগণ একটি সত্যিকারের নির্বাচন পাবে। আগের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কেউ যায়নি, মানুষ জানেই না কী হয়েছে।”

যেসব লাখ লাখ ভোটার পূর্ববর্তী শাসনামলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের জন্য এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।


প্রশ্ন রইল—এবারের নির্বাচন কি সত্যিই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে?

Next News Previous News