তেল আবিবে নেতানিয়াহুর গাজা দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ
তেল আবিবে নেতানিয়াহুর গাজা দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজা দখলের সামরিক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশটির তেল আবিব শহরে শনিবার রাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। তারা অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও বন্দি জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানান।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ফিলিস্তিনি অঞ্চলে চলমান যুদ্ধকে আরও কঠোর রূপ দিতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতি দেশীয় জনমনে ক্রমশ বিরোধিতা বেড়ে চলেছে। সেনাবাহিনীও সতর্ক করেছে, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এক নাগরিক লিশাই মিরান লাভি বলেন, “এটি শুধুমাত্র সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের জন্য মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।” মিরান লাভি নিজেই হামাসের বন্দি ওমরি মিরানের স্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক মনে করেন, এখনই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত যাতে গাজায় আটক প্রায় ৫০ জন জিম্মিকে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া যায়। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, এখনও প্রায় ২০ জন জিম্মি জীবিত রয়েছেন।
ইসরাইলি সরকার দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণের ঘোষণা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মন্ত্রিসভা রোববার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের অধিকাংশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন।
তেল আবিবের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৯ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত রামি দার বলেন, “সরকার উগ্রপন্থী হয়ে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।” তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি জিম্মিদের মুক্তির জন্য দ্রুত একটি চুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
গত কয়েক ঘণ্টায় এই বিষয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ বাড়াচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় অচিরেই নতুন ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার দৃষ্টিতে, গাজায় সামরিক অভিযান বৃদ্ধি কি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য জরুরি, নাকি শান্তির পথ খোঁজাই এখনো প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত? আপনার মতামত জানান।
