গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে জনগণই মূল চালিকা শক্তি: প্রধান উপদেষ্টা
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বার্নামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সংস্কার এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। বার্তাসংস্থাটি এই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি নই, এটা হলো সাধারণ মানুষ যারা পরিবর্তন চায়। তারা যেভাবে পরিবর্তন চায় আমি তাদের সেভাবে শুধুমাত্র সাহায্য করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিজের কোনো কিছু চাপিয়ে দেই না। আমি সাধারণ মানুষের ইচ্ছা কি সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করি। তখন আমি এটি হতে সাহায্য করি।”
নিজেকে নেতা নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার একজন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে তিনি স্বীকার করেন—গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তাঁর ভাষায়, “অনেক সমস্যা রয়েছে। অনেকে এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। বাংলাদেশ থেকে যে রাজনৈতিক উপাদান উৎখাত হয়েছে, সেগুলো পুরো ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।”
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে অনেক নাগরিক গত ১০-১৫ বছর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, ১৮ বছর বয়স, ভোট দেওয়ার জন্য উদ্দীপ্ত। কিন্তু আপনার ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ আসেনি, কারণ এমন কোনো নির্বাচন কখনো হয়নি। তারা গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে।”
এদিকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও জানাচ্ছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নির্বাচন কমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পর্যবেক্ষক দলগুলোকেও স্বচ্ছতার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে—১৫ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া এই প্রজন্ম কি সত্যিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে নতুন দিকে নিয়ে যাবে?
