গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশজুড়ে দোয়া ও শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এক শান্তিময় সময়ে জন্ম নেওয়া এই নেত্রীর ৮১তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। দলের পক্ষ থেকে আজ দেশের নানা স্থানে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া একাধিকবার কারাবরণ করেছেন, সহ্য করেছেন অমানবিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার বোঝা। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান গত বছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। তাঁর এই ত্যাগ ও সংগ্রামকে দেশবাসী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথিকৃৎ হিসেবে দেখছেন।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করে তিনি হয়ে ওঠেন ‘আপসহীন নেত্রী’। এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১-র সেনাসমর্থিত সরকারের বিরাজনীতিকরণ চক্রান্ত—সবক্ষেত্রেই ছিলেন দৃঢ় ও সাহসী। তাঁর ভাষায়, ‘বিপদে ভেঙে পড়তে নেই। বিপর্যয় কেটে যাবে। এদেশের ছাত্র-জনতা কখনোই অন্যায় মেনে নেয়নি।’

দীর্ঘ কারাবাসে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও খালেদা জিয়ার মনোবল ভাঙেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন তিনি। কিন্তু ইতিহাস বলছে, তাঁর সেই দৃঢ় অবস্থানই গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

মুক্তির পর তিনি লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করেন, কাতারের আমিরের বিশেষ বিমানে সম্মানিত যাত্রা করেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গণতন্ত্রে উত্তরণের আহ্বান জানান, যা নতুন করে আশা জাগিয়েছে গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে।

আজ, তাঁর জন্মদিনে দেশজুড়ে একটাই প্রত্যাশা—এই ‘গণতন্ত্রের মাতা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেন একটি সুশাসন, ন্যায় ও স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।

প্রশ্ন থেকে যায়—গণতন্ত্রের এই পুনর্জাগরণ কি এবার স্থায়ী রূপ নেবে?

Next News Previous News