“বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফিরবে পুরোনো সংকট”

গণ-অভ্যুত্থানের পর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশে আবারও পুরোনো সমস্যাগুলো ফিরে আসতে পারে—এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি বৈধ না হয়, তাহলে এর কোনো অর্থ নেই। আমার কাজ হলো এমন একটি গ্রহণযোগ্য, পরিষ্কার ও আনন্দদায়ক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, সেগুলো অর্জনের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে বহু ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, কারণ অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল দুর্নীতি ও অপব্যবহারে ভরা।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক সরকারের প্রধান প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করছেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতেও বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর ভাষায়, “আমরা বলেছি, আপনারা তাকে রাখুন, আমাদের বিচার চলবে। কিন্তু তিনি যেন দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ না পান।”

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ঢাকার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। মার্চ মাসে প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক রয়েছে, ভারতের সঙ্গেও তেমন সম্পর্ক বজায় রাখতে চান—এটি শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত সুযোগ।

বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে ছাত্রনেতাদের আহ্বান ও জনগণের ত্যাগ তাকে রাজি করায়। নির্বাচন শেষে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও ঘোষণা দেন।

শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আর পথভ্রষ্ট হবে না। যুবসমাজ যেন ভোটের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরে, এবং একটি গণতান্ত্রিক নীতিমালা-সম্মত সরকার গড়ে ওঠে।


প্রশ্ন রইল—নির্বাচনপূর্ব এই সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া কি সত্যিই বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে পারবে?

Next News Previous News