বেরোবির সাবেক উপাচার্য গ্রেপ্তার: দুর্নীতির অভিযোগে ডিবির অভিযান

ঢাকা থেকে বিশেষ প্রতিবেদন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় এই গ্রেপ্তার হয়। মামলার অভিযোগ—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন কলিমউল্লাহসহ পাঁচজন।

মামলায় যেসব ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন:

  • সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী,
  • সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ,
  • সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম,
  • ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু,
  • এবং এম এম হাবিবুর রহমান।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের অনিয়ম, দরপত্রে স্বচ্ছতা না রাখা এবং নির্ধারিত কার্যক্রম সঠিকভাবে না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে।

উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কলিমউল্লাহ ছিলেন নানা বিতর্কের কেন্দ্রে। একবার অনলাইনে রাত ৩টায় ক্লাস নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি তাঁর অভিনীত একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত অভিযোগ ছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি।

এ বিষয়ে এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “তাঁর ভাষায়, ‘সরকারি অর্থ যেভাবে খরচ করা হয়েছে, তাতে নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।’”

সর্বশেষ হালনাগাদ: এখন পর্যন্ত জানা গেছে, কলিমউল্লাহকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি, তবে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

প্রশ্ন থেকে যায়: দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কী পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা আছে? এই ঘটনা কি আরও বড় দুর্নীতির চিত্র সামনে আনবে?

Next News Previous News