রোজার আগে নির্বাচনে কোনো দ্বিমত নেই জামায়াতের: ডা.তাহের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দ্বিমত নেই জামায়াতের। তবে শর্ত একটাই—নির্বাচনের আগে জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করতে হবে। দলটির দাবি, এই সনদ কার্যকর না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার নিতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, “লন্ডনে গিয়ে বৈঠক করা এবং জুলাই চার্টার পাশ কাটিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা—এটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।”

পিআর পদ্ধতির দাবি

দলটি আবারও প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, পুরোনো ভোটপদ্ধতিতে কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়ম ঘটে। পিআর পদ্ধতি চালু হলে এ ধরনের অনিয়মের অবসান ঘটবে। তাঁদের ভাষায়, “অধিকাংশ দলই এ ব্যবস্থার পক্ষে। আমরা আর পুরোনো ধাঁচে ভোট চাই না।”

জাপা নিষিদ্ধের দাবি

শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জামায়াত। দলের দাবি, সমানভাবে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা জরুরি।

জুলাই চার্টারের অচলাবস্থা

জামায়াতের বক্তব্য, জুলাই চার্টার বাস্তবায়নে কিছু রাজনৈতিক দল বাধা দিচ্ছে। তাঁদের মতে, যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে সেগুলো সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। অন্যথায়, নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ধাপে ধাপে এনসিপি ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

দেশের বিভিন্ন মহল ইতিমধ্যেই নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে ভিন্নমত জানাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই চার্টার কার্যকর না হলে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে কি সত্যিই অনিয়ম কমবে, নাকি আবারও পুরোনো ধাঁচের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বে রাজনীতি?

Next News Previous News