প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের মারধরের শিকার সাংবাদিকরা

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক ও একজন ইউটিউবার। আহতদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর আড়াইটার দিকে, প্রেসক্লাবের গেট সংলগ্ন পুলিশ বক্সের সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা দুই সাংবাদিককে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে তারা উল্টো সাংবাদিকদের বক্সের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন আহত সাংবাদিক বলেন, “পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের দফায় দফায় বক্সের ভেতরে নিয়ে মেরেছে। এটি অন্যায় ও ইচ্ছাকৃত।”

অপর এক সাংবাদিক জানান, ঘটনাটি ভিডিও করার চেষ্টা করলে পুলিশ তার ওপরও চড়াও হয় এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বলে। তিনি বারবার সাংবাদিক পরিচয় দিলেও মারধরের শিকার হন।

সহকর্মীরা আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেলে জানান, প্রথমে মাইক্রোবাসের চালক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে, পরে যাত্রীরাও যুক্ত হয়। অথচ ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কোনো সহায়তা না করে বরং সাংবাদিকদের ওপরই হামলা চালায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা গেছে কয়েকজনকে সাংবাদিকদের মারধর করতে, পরে পুলিশ এসে তাদের আরও প্রহার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সহকর্মী সাংবাদিকরা। তারা অভিযুক্ত সদস্যদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি তুলেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেসক্লাবের সামনের এই ঘটনাটি শুধু সাংবাদিক নিরাপত্তা নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আপনার কি মনে হয়—পুলিশের এ ধরনের আচরণ কি পেশাগত স্বাধীনতায় হুমকি তৈরি করছে?

Next News Previous News