বাচ্চাদের মৃত্যু নিয়ে কথা বললেই বলে, আমরা নাকি মায়াকান্না করি

জাতীয় › মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা • নিজস্ব প্রতিবেদন

মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছে। নিহত আছিয়ার মা তামিমা আক্তারের ভাষায়, “আমরা যখন আমাদের বাচ্চাদের মৃত্যু নিয়ে কথা বলি, তখন কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন— আমরা নাকি মায়াকান্না করি। আমি কি আমার বাচ্চার মৃত্যুর জন্য বিচার চাইতে পারব না?”

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে নয় দফা দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— রানওয়ে এলাকা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরানো, কোচিং বাণিজ্যের অবসান, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিহত শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান।

তামিমা আক্তার অভিযোগ করেন, “মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ জোর করে শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করত। বাচ্চাগুলো কোচিংয়ের জন্য আটকানো ছিল। আর সেই কারণেই তারা মারা গেছে।”

তাঁর আরও অভিযোগ, কলেজে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে নানা অনিয়ম চলছে। এমনকি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ তোলেন তিনি।

নিহত শিক্ষার্থী ফাতেমার মামা লিয়ন মীর লিখিত বক্তব্যে বলেন, “২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে রাজিয়া ও নাফি ছাড়া বাকিরা সেদিন কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। নাজিয়াকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। এই কোচিং ব্যবসায়ই শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।”

৮ম শ্রেণির নিহত তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, “এতগুলো বাচ্চা মারা গেল, অথচ যেন কিছুই হয়নি।”

নিহত শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার দিন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবহন ব্যবহার করেনি।” তিনি নিহতদের রাষ্ট্রীয় শহীদ মর্যাদা প্রদান ও দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবি জানান।

মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানালেও এখনো তাদের অভিযোগের কোনো কার্যকর সমাধান দেখা যায়নি। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে— তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কি পরিবারগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে?

Next News Previous News