বরুড়ায় বিএনপির ঘুঁটি সাজানো, একক লড়াইয়ে জামায়াত — উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার কৃষি ও ব্যবসাসমৃদ্ধ উপজেলা বরুড়া এখন নির্বাচনি উত্তেজনায় সরগরম। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়েছে বিএনপি। আর একক প্রার্থী দিয়ে বাজিমাত করতে মরিয়া জামায়াত। উভয় দলের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি, গণসংযোগ আর সভা-সমাবেশে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে নির্বাচনি আমেজ।

কুমিল্লা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে বরুড়া আসন নিয়ে গঠিত একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন। অতীতে এই আসনে বিএনপির প্রভাব ছিল ব্যাপক। ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে শিল্পপতি একেএম আবু তাহের এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেন। তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয় পান তাঁর ছেলে জাকারিয়া তাহের সুমন। ২০০৮ সালে অল্প ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে।

কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়ায় বরুড়ায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে সরকার পতনের পর স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাদের অনুপস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াত নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি এখন কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ইউনিয়নভিত্তিক টিম গঠন করে ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইউনিয়নভিত্তিক দলে বিভক্ত হয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, “তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের অধিকাংশ প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন। এলাকায় তাঁর ব্যাপক জনভিত্তি রয়েছে।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে এ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের শূরা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুল আলম হেলাল। গত কয়েক মাস ধরে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনি নিরবিচারে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠকেও রয়েছে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

যদিও বরুড়া আসনে জামায়াত কখনোই জয়লাভ করেনি, তথাপি দলটি এবার ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত।

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসনটি ঘিরে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে বিরোধী দলগুলোর তৎপরতা বরুড়া আসনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এবার কীভাবে কৌশল নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তাঁদের ভাষায়, “আগামী নির্বাচনে বরুড়া হবে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের রায়ের বাস্তব মঞ্চ।”

প্রশ্ন রয়ে যায়: দীর্ঘদিন পর বরুড়া আসনে বিএনপি ফিরে আসতে পারবে কি? নাকি জামায়াতের কৌশলিক প্রচারণাই বাজিমাত করবে?

Next News Previous News