গাজা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর, সেনাবাহিনীর আপত্তি উপেক্ষিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যা ঘিরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরেই তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ।

টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই পরিকল্পনার অনুমোদন চাইবেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে—“সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমরা গাজা পুরোপুরি দখল করতে যাচ্ছি।”

তাঁর ভাষায়, “জিম্মিদের যেসব এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে, সেখানেও অভিযান চালানো হবে। যদি সেনাপ্রধান এতে সম্মতি না দেন, তাহলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।”

এদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির স্পষ্টভাবে এই পূর্ণ দখল পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। আইডিএফ মনে করছে, এই ধরনের অভিযান বহু বছর সময় নিতে পারে এবং এতে হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করা গেলেও জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে।

বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি অঞ্চলগুলোও দখলের মাধ্যমে পুরো গাজাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে গাজার প্রতিটি ৫ বছরের কম বয়সি শিশু প্রাণঘাতী অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলোও একাধিকবার গাজায় জরুরি সহায়তা পাঠাতে বাধার কথা জানিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু হয়তো শেষ মুহূর্তে সেনাবাহিনীকে অপেক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন, যাতে জিম্মি মুক্তির আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়।

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—গাজা পুরোপুরি দখল করলে মানবিক সংকট কতটা বাড়বে? আর এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কী উত্তেজনা সৃষ্টি করবে? আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

Next News Previous News