টেকনাফ সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর বিজিবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আবারও উত্তপ্ত। টেকনাফ সীমান্তের ওপার থেকে টানা গোলাগুলির শব্দ শুনে উদ্বেগ ছড়িয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের কারণে এই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয়দের মতে, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। হোয়াইক্যং এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে রাতভর গুলির শব্দ ভেসে এসেছে। আতঙ্কে সীমান্তে কাজ করা শ্রমিকরা রাতেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক কমিউনিটি নেতা জানিয়েছেন, “সম্প্রতি আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়েছে। জীবন বাঁচাতে অনেকেই সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নিচ্ছে।”

সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কড়া তৎপরতা চালাচ্ছে। টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, “সীমান্তের ওপার থেকে কিছু মানুষ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কেউ যাতে নতুন করে ঢুকতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে।”

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ৬২ জনকে প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের ১০ ও ১৯ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তেও একই ধরনের গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।

সর্বশেষ আপডেট: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এখনো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যায়—বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এ অস্থিরতা কতদিন চলবে? সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ কি শঙ্কামুক্ত জীবন ফিরে পাবে?

Next News Previous News