আবু সাঈদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বদলাতে বিদেশ ভ্রমণের প্রলোভন দেখানো হয়
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পরিবর্তন আনতে চিকিৎসককে নানা প্রলোভন ও চাপ দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম।
ডা. রাজিবুল জানান, তিনি আবু সাঈদের শরীরে একাধিক পিলেট ইনজুরি পান এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণজনিত কারণে মৃত্যুর সত্য প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তারা বারবার প্রতিবেদন পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে তাঁকে পাঁচবার নতুন করে রিপোর্ট লিখতে বাধ্য করা হয়।
তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে তাঁকে ডেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্বাচিপ নেতারা চাপ দেন। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়—“বুলেট ইনজুরির পরিবর্তে হেড ইনজুরি লিখতে হবে, নইলে মামলা করা হবে।” এমনকি তাঁকে বিদেশ ভ্রমণ ও ছুটির প্রলোভনও দেখানো হয়।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, “আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার দৃশ্য সারা বিশ্বে লাইভ হয়েছে। আমি যদি হেড ইনজুরির কথা উল্লেখ করি, ডাক্তার সমাজকে ঘৃণার চোখে দেখবে বিশ্ব।”
ডা. রাজিবুল জানান, শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সত্য প্রতিবেদন জমা দেন। তবে আগে লেখা তিনটি প্রতিবেদনও তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হন। এসব বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শহীদ আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি করেন।
এই সাক্ষ্য আদালতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী ধামাচাপার চেষ্টা সম্পর্কে আরও কী কী তথ্য সামনে আসবে?
