মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম চলছে।

আজকের শুনানিতে তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দেবেন। তারা হলেন শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল, প্রত্যক্ষদর্শী জসিম এবং জুলাই যোদ্ধা এনাম। এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনও আসামি হিসেবে রয়েছেন। মামুন ইতোমধ্যে নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন, তবে অন্যরা এখনো পলাতক।

প্রসঙ্গত, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট চারজন সাক্ষী—সবজি বিক্রেতা আবদুস সামাদ, মিজান মিয়া, শিক্ষার্থী নাঈম শিকদার এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম—তাদের সাক্ষ্য দেন। সেদিন বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ শুনানি চলে, যেখানে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অন্যান্য প্রসিকিউটররা।

আজ সকালেও আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ। এর আগে ৩ থেকে ৬ আগস্ট পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দিয়েছেন আহত শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগীরা। তাদের বক্তব্যে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের আয়তন প্রায় আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা, যেখানে শহীদদের তালিকা, দালিলিক প্রমাণ এবং জব্দকৃত নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট ৮১ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

সর্বশেষ আপডেট

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ হলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে আসামিদের কেউ পলাতক থাকায় রায় কার্যকর করার প্রশ্নে ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—এই মামলার রায় কি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে, নাকি দীর্ঘসূত্রতায় জনগণের আস্থা হারাবে?

Next News Previous News