রাশিয়া ইউক্রেন শান্তি চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে: যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্ব
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চলমান ইউক্রেন সংঘাতের নিরসনে শান্তি চুক্তি প্রসঙ্গে রাশিয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে। যদিও সংঘাতের অবসানের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না, তবু শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এলএনবিসি’র “মিট দ্য প্রেস উইথ ক্রিস্টেন ওয়েকার” অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, “সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে প্রথমবার রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে, কিয়েভে কোনো পুতুল সরকার বসানো সম্ভব হবে না, যা শুরুতে তাদের মূল দাবি ছিল। এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা স্বীকার করেছে যে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের অখণ্ডতার জন্য কিছু নিরাপত্তা গ্যারান্টি থাকবে।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন চেয়েছেন, ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল ছাড়ুক, ন্যাটো যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করুক, দেশ নিরপেক্ষ থাকুক এবং দেশের মধ্যে পশ্চিমা সেনা রাখার অনুমতি না দিক।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ কিছু দেশের উচিত ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেছেন, “ট্রাম্প স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, রাশিয়া যদি হত্যা বন্ধ করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় যোগ দিতে পারবে তারা। কিন্তু যদি তারা হত্যা বন্ধ না করে, তবে তারা (সারা বিশ্ব থেকে) বিচ্ছিন্ন থাকবে।” এছাড়া, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—আসছে দিনগুলোতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান বাস্তবে সম্ভব হবে কি না?
