তিন ডজনের বেশি প্রার্থী, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের মধ্যে
সাতক্ষীরার চার আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মূল লড়াই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে
নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই সাতক্ষীরার চারটি আসনে জমে উঠেছে প্রার্থীদের তৎপরতা। ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ আর কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—এবারও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)
এ আসনে ভোটার সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবস্থান ধরে রেখেছেন। স্থানীয়দের ধারণা—এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা-২ (সদর)
সদর আসনকে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি বলা হয়। এবারে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক শক্ত অবস্থানে আছেন। তবে বিএনপিও এখানে পিছিয়ে নেই। চারবারের জেলা আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ ও অভিজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম মনোনয়ন প্রত্যাশায় তৎপর রয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা-কালীগঞ্জ)
নতুন সীমানা নির্ধারণের পর এ আসনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ। জামায়াতের হাফেজ মাওলানা রবিউল বাশার একক প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি থেকেও একাধিক নেতার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের একাংশ)
ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের তৎপরতা থেমে নেই। জামায়াতের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম শক্ত অবস্থানে আছেন। বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়নের অপেক্ষায় আছেন।
সার্বিক চিত্র
রাজনৈতিক ময়দান ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—কে জিতবে সাতক্ষীরার চার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা? আওয়ামী লীগ মাঠে সক্রিয় না থাকায় ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।
সর্বশেষ আপডেট
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের খসড়া গেজেট প্রকাশের পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমানা নির্ধারণে জনমত উপেক্ষা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে আপত্তি গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই সীমানা বিভাজন ও দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়ার প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল পাল্টে দেবে? নাকি প্রচলিত শক্তি ভারসাম্যই বজায় থাকবে? আপনার কী মত?
