“মার্কিন বশ্যতা মানবে না ইরান”—সর্বোচ্চ নেতার কঠোর বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কখনো নত হবে না তেহরান। তাঁর ভাষায়, “তারা চায় ইরান যেন আমেরিকার বাধ্য থাকে। এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতি তাদের সব শক্তি নিয়ে রুখে দাঁড়াবে।”
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের বর্তমান অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেই এ মন্তব্য এল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ইরানি ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা সমঝোতা আলোচনায় ফেরার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। এর আগে জুনে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় কথিত মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর আলোচনার গতি থমকে যায়।
খামেনি আরও বলেন, যারা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং সরাসরি আলোচনার পরামর্শ দেন, তারা কেবল বাইরের চিত্রটাই দেখেন। তাঁর মতে, “এভাবে চলমান ইস্যু সমাধানযোগ্য নয়।”
অন্যদিকে, তেহরান আলোচনায় অস্বীকৃতি জানালে ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ ব্যবহার করে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভোট ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা সম্ভব।
পশ্চিমাদের দাবি, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগোচ্ছে। তবে ইরান সবসময়ই জানিয়ে এসেছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে— যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারমাণবিক ইস্যুতে এই টানাপোড়েন কতদূর গড়াবে? আলোচনার মাধ্যমে সমাধান কি আদৌ সম্ভব, নাকি নিষেধাজ্ঞার নতুন অধ্যায় শুরু হবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
