গাজায় নতুন করে ৫১ জনের মৃত্যু, অবরুদ্ধ শহরে বাড়ছে দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসযজ্ঞ
ফিলিস্তিনের গাজায় থামছে না দখলদার বাহিনীর হামলা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫১ জন নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এদের মধ্যে ২৪ জন মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও ৮ জন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শুধু অনাহার ও অপুষ্টিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৯ জন। এর মধ্যে ১১৫ জন শিশু। গাজায় মানবিক পরিস্থিতি প্রতিদিনই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
ইসরায়েলি বাহিনী ৬ আগস্ট থেকে গাজায় অভিযান শুরু করার পর থেকে জেতুন ও সাবরা মহল্লায় এক হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের দাবি, শত শত মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। অবরুদ্ধ সড়ক ও টানা গোলাবর্ষণের কারণে উদ্ধারকাজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সংস্থাটির ভাষায়, “গাজার কোথাও নিরাপদ এলাকা নেই। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সবখানেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র এমনকি ত্রাণ শিবির পর্যন্ত হামলা চলছে।”
সাবরা এলাকায় ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়েছে দখলদার বাহিনী। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দক্ষিণে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জরুরি কর্মীরা অসংখ্য নিখোঁজ মানুষের খবর পাচ্ছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত সাড়া দিতে পারছেন না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে, গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
প্রশ্ন থেকে যায়—এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি আরও সক্রিয় হবে, নাকি গাজার মানুষের দুর্দশা আরও দীর্ঘায়িত হবে?
