পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই: বিচারপতি আব্দুর রহমান
দেশের প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আগামী দিনে প্রকৃত গণতন্ত্র ও জনমতের পূর্ণ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হলে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির নির্বাচন চালু করা ছাড়া বিকল্প নেই।
মূল আলোচনা
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তারা বলেন—অতীত অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় না। বরং এ ব্যবস্থায় প্রার্থীরা নানা অনিয়ম, পেশীশক্তি ও অর্থশক্তির প্রভাব খাটানোর সুযোগ পান। ফলে ভোটের আসল মূল্যায়ন হয় না, আর ক্ষমতাসীনরা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে।
একজন বক্তার ভাষায়, “ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে এবং জনগণের রায়কে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে হলে পিআর পদ্ধতিই একমাত্র কার্যকর পথ।”
জুলাই বিপ্লব ও পিআর পদ্ধতি
আলোচনায় আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। বক্তারা দাবি করেন, এ বিপ্লবকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বীকৃতি দিতে হবে এবং জুলাই সনদকে সাংবিধানিকভাবে ঘোষণা করে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাপট
বিশেষজ্ঞরা জানান, পিআর পদ্ধতি ইতোমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশে কার্যকরভাবে চালু রয়েছে এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য অধিকতর গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রস্তাব রাখা হয়েছে, বিদ্যমান আইন সংশোধন করে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। প্রচলিত পদ্ধতি না কি নতুন পিআর পদ্ধতি—কোনটি আসলেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে? জনমনে এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে।
