রুমমেটকে ছুরিকাঘাত, ডাকসু ভিপি প্রার্থী জালাল হল থেকে বহিষ্কার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রুমমেটকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ডাকসু ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ জালালকে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গুরুতর আহত ছাত্র রবিউল হক বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘদিনের বাকবিতণ্ডার জের ধরেই জালাল ছুরি দিয়ে রুমমেট রবিউল হককে আঘাত করেন। আহত রবিউল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
আহত রবিউল জানান—“রাত সাড়ে ১২টার দিকে জালাল রুমে এসে শব্দ করতে থাকে। আমি প্রতিবাদ করলে সে রেগে গিয়ে আমাকে বহিরাগত বলে অপমান করে। এরপর হঠাৎ ছুরি দিয়ে আঘাত করে।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জালাল আহমদকে পুলিশে সোপর্দ করে। হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান—“এ ধরনের নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হলো। তার ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ বলেছেন, এ ঘটনার কারণে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে জালালের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগগুলোও নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মুহসীন হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করেছেন। প্রক্টর জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা যদি উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি তুলে ধরেন, তবে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শেষকথা
একটি সহপাঠীকে আঘাতের মতো গুরুতর ঘটনা ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন হচ্ছে—আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের আগে এই ঘটনার অভিঘাত বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে?
