ওয়াশিংটনে গৃহহীন উচ্ছেদ পরিকল্পনা ঘোষণা, অপরাধীদের জন্য সরাসরি কারাবাসের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের সরিয়ে দূরবর্তী স্থানে পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে অপরাধীদের জন্য দিয়েছেন সরাসরি কারাবাসের সতর্কবার্তা।

স্থানীয় সময় রোববার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে প্রেসিডেন্ট জানান, গৃহহীনদের অবিলম্বে রাজধানী থেকে সরে যেতে হবে। তাঁদের জন্য থাকার জায়গা দেওয়া হবে, তবে সেটা হবে অনেক দূরে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আরও কঠোর—তাঁদের পাঠানো হবে কারাগারে। তাঁর ভাষায়, “রাজধানীকে আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর করে তুলব।”

পোস্টের সঙ্গে রাজধানীর সড়কে থাকা তাঁবু ও আবর্জনার ছবিও যুক্ত করা হয়। তবে, কোন আইনি ক্ষমতায় গৃহহীনদের সরানো হবে—সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ কেবল ফেডারেল জমি ও ভবনের ওপর সীমিত।

শহরের গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা কমিউনিটি পার্টনারশিপ এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে একক গৃহহীন ব্যক্তির সংখ্যা ৩,৭৮২। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন খোলা আকাশের নিচে বাস করেন, বাকিরা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্তর্বর্তীকালীন আবাসনে থাকেন।

এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক সহিংস ঘটনার প্রভাব—কয়েকদিন আগে এক তরুণ প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরই রাজধানীতে অতিরিক্ত ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির মেয়রের দাবি, রাজধানীতে অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে সহিংস অপরাধ কমেছে ২৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক অপরাধ প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মেয়রের ভাষায়, প্রয়োজনে শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে।

প্রশ্ন রইল—নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের নামে গৃহহীনদের রাজধানী থেকে সরিয়ে দেওয়া কি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নাকি আরও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে?

Next News Previous News