পিটিআইয়ের ৫৯ নেতার ১০ বছর করে কারাদণ্ড, খালাস ৩৪ জন
পাকিস্তানে সহিংসতার মামলায় তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শীর্ষস্থানীয় ৫৯ নেতাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির ফয়সালাবাদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। একই মামলায় ৩৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় সামরিক স্থাপনা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভবন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহর বাড়িতে হামলার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ওমর আইয়ুব, শিবলি ফারাজ, জারতাজ গুলসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
ওই মামলায় মোট আসামি ছিলেন ১০৯ জন। আদালত ৭৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং ৩৪ জনকে খালাস দিয়েছেন। এর মধ্যে শেখ রশিদ জাভেদ ও কয়েকজন পিটিআই কর্মীকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এবং এমএনএ জয়েন কুরেশি অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
সাজা ঘোষণার পর জারতাজ গুল সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন—“তাঁর ভাষায়, ‘আমি নির্দোষ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।’”
এর আগে এ মাসের শুরুতে লাহোরের আদালত পিটিআইর ড. ইয়াসমিন রশিদ, সিনেটর ইজাজ চৌধুরী, মিয়ান মাহমুদ উর রশিদ এবং সাবেক গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমাসহ অনেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। গত সপ্তাহেই ইমরান খানের ভাগনে শেরশাহ এবং শাহরেজকে ৯ মের দাঙ্গায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। দাঙ্গার পর দলের হাজারো নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয় এবং একে একে নানা মামলার রায়ে সাজা পাচ্ছেন পিটিআই নেতারা।
প্রশ্ন রয়ে গেল—পাকিস্তানের রাজনীতিতে এ ধারাবাহিক সাজা কি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে, নাকি নতুন সমঝোতার পথ খুলবে?
