“মাই টিভি দখলের জন্য পরিকল্পিত গ্রেপ্তার”—অভিযোগ নুরুল হক নুরের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত যোগসাজশের মাধ্যমে মাই টিভির চেয়ারম্যান ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী একটি মহলের চাপ ও স্বার্থ।

সোমবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নুর বলেন— “জনকণ্ঠ দখলের মতো মাই টিভি দখলেও সুপরিকল্পিতভাবে কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। নগদ অর্থ বা শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবার ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল মব তৈরি করে চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।”

নুর আরও প্রশ্ন তোলেন, যাত্রাবাড়ী থানার এক ছাত্র হত্যা মামলায় এক বছর পর তাঁদের নাম যুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হলো কেন? তাঁর ভাষায়, “তৌহিদ আফ্রিদি বা তার বাবা ছাত্র হত্যা করেছে—এটি প্রমাণ করা সম্ভব কি? যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকত, তবে আলাদা মামলা করা যেত। কিন্তু ভিত্তিহীনভাবে এ মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।”

তিনি সতর্ক করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নুরের মতে, “এভাবে যারা সরাসরি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়, গণমাধ্যমের মালিক, ব্যবসায়ী কিংবা সেলিব্রিটিরাও মবের শিকার হচ্ছে। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির তৈরি হচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করবে।”

নুর আরও বলেন, এসব ঘটনার কারণে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে পড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, “কার্যত এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তই দেশে ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করে।

সবশেষে তিনি আহ্বান জানান— “মাই টিভি দখলের জন্য যারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনতে হবে।


সাম্প্রতিক আপডেট

মিডিয়া মহলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা বলছে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মিডিয়া পরিচালনার পরিবেশকে আরও সংকুচিত করবে।


👉 আপনার কী মনে হয়? এ ধরনের গ্রেপ্তার কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

Next News Previous News