বাণিজ্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা, ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিল চীন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে ভারতের পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে চীন। দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, এমনকি তা আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে। চীন কঠোরভাবে এর বিরোধিতা করে। বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে চীন ভারতের পাশে থাকবে।”

এর আগে ভারতের সফরে আসা চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও একই সুরে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “একতরফা তর্জন-গর্জন বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি।”

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

সীমান্ত উত্তেজনা ও অতীতের সংঘাত সত্ত্বেও দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসন্ন সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাচ্ছেন চীন, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মার্কিন শুল্ক নীতির কারণেই নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই ভারত-চীন ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। গবেষক উপমন্যু বসুর মতে, “ট্রাম্পের চাপ সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ দিলেও সীমান্ত বিবাদ না মিটলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।”

বাণিজ্য ও সহযোগিতা

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত-চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৭.৭ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক আলোচনায় সার, বিরল খনিজ, মেশিনারি ও নদী সম্পর্কিত তথ্য ভাগাভাগিসহ একাধিক বিষয়ে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছে দুই দেশ। তবে অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানের নাম বদলানো ও সীমান্তে নতুন বাঁধ নির্মাণের মতো ঘটনাকে ঘিরে এখনও সন্দেহ কাটেনি।

কোয়াড ও যুক্তরাষ্ট্র ফ্যাক্টর

ভারত-চীনের ঘনিষ্ঠতা ‘কোয়াড’ জোটে প্রভাব ফেলবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোয়াডের কৌশলগত গুরুত্ব অটুট থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সাময়িক টানাপোড়েনে পড়তে পারে। তবে দুই দেশই একে অপরকে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারবে না।

বন্ধুত্ব নাকি ভারসাম্য?

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীন “সত্যিকারের বন্ধু” হয়ে উঠবে এমনটা সহজ নয়। তবে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা ছাড়া অন্য কোনো পথও নেই। ভূ-রাজনীতির বাস্তবতা হলো—সংঘাতের মাঝেও সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া।

শেষকথা

একদিকে সীমান্ত সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাস, অন্যদিকে বাণিজ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা— এই দুই বিপরীত বাস্তবতায় ভারত-চীনের সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করছে আসন্ন বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষের অবস্থানের ওপর।

প্রশ্ন রয়ে যায়—ভারত ও চীন কি সত্যিই পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে পারবে, নাকি সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকবে কৌশলগত ভারসাম্যে?

Next News Previous News