“দক্ষিণ নয়, উত্তর নয়—বাংলাদেশপন্থী বিএনপি”: নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে স্পষ্ট বার্তা
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিলো বিএনপি। দলটি এখন আর দক্ষিণ বা উত্তরপন্থী নয়, তারা নিজেকে বলছে ‘বাংলাদেশপন্থী’ ও ‘মধ্যপন্থী’। এই বক্তব্য এসেছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে, যিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন।
তাঁর ভাষায়, “বিএনপি গণমানুষের দল। আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই যেন এক টেবিলে বসতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরিতে আমরা কাজ করছি।” তিনি বলেন, এ কারণে বিএনপি সকল পক্ষের সাথেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, সরকারের প্রতি প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যা অর্জিত হয়েছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, তবে দেশের জনগণের আশা ছিল অনেক বেশি। তাঁর ভাষায়, “সরকার বিভিন্ন সময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপগুলোও নেওয়া হয়নি।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতি পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠিকে তিনি “গত এক বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, জাতি এই পদক্ষেপের জন্যই অপেক্ষা করছিল। একইসাথে তিনি জানান, বিচার ও সংস্কারের অগ্রগতিতে বিএনপি সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় প্রধান উপদেষ্টার ভিশনকে তারা সমর্থন জানাবে।
নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন হবে। সাংবিধানিক সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো হঠাৎ করে বদলানো সম্ভব না হলেও, তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখার কথা বলেন তিনি। তবে, “মূল ভূমিকা পালন করবে সেনাবাহিনী,”—এমনটি স্পষ্ট করে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। যখন জনগণ ও প্রার্থীদের মানসিকতা ইতিবাচক হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অনেকটাই গৌণ হয়ে পড়ে।”
জোট গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সমমনা যেকোনো দলের সঙ্গে জোট হতে পারে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা ও জল্পনা তুঙ্গে, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অবস্থান রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করলো। নির্বাচন কমিশনও সম্প্রতি জানিয়েছে, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
প্রশ্ন রইলো: বিএনপির এই ‘বাংলাদেশপন্থী’ অবস্থান কি আদতে নতুন কোনও জাতীয় ঐক্যের পথে যাত্রা শুরু? নাকি এটি শুধুই কৌশলগত অবস্থান? সময়ই দেবে এর উত্তর।
