ঢাকার কারাগারে নগদ টাকা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ

কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, গত এক বছরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখনো অল্প অল্প ধরা পড়ছে। তবে আগের থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে কারাগারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইজি প্রিজন জানান, “ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এখন অনেকটা কমেছে, তবে বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। আমরা মাদকের বিষয়ে অনেক কঠোর।” তিনি আরও জানান, পেটের মধ্যে করে ইয়াবা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয় এবং মাদক মামলায় গ্রেপ্তারদের বিশেষ সেলে রাখা হয় যাতে তারা মাদক ছড়িয়ে দিতে না পারে।

মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইলের আলামত পাওয়ায় ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, কারাগারে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাশিমপুর ও কেরানীগঞ্জ কারাগারে রান্না করা খাবার বাসা থেকে আনা বন্ধ করা হয়েছে।

পলাতক বন্দি বিষয়েও খবর আছে। ৫ আগস্টে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়েছে। এর মধ্যে এখনও ৭০০ এর বেশি বন্দি পলাতক। পলাতক বন্দিদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গি এবং ৬০ জন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার বিষয়ে আইজি প্রিজন জানান, “এখনও ২৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আরও কিছু গোলাবারুদ বাকি আছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অস্ত্র ফেরত দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।”

নারী বন্দিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কেরানীগঞ্জে আরও একটি কারাগার নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিশেষ কারাগারে একটি সেল নারী বন্দিদের জন্য খোলা হবে।

কারাগারে বন্দিদের ফোন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে একবার ৫ মিনিট করে কথা বলার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অপব্যবহার এড়াতে অটোমেশন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

কম্প্রিহেন্সিভ জ্যামিং সিস্টেম ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে চালুর প্রক্রিয়া চলছে, প্রথমে স্পেশাল জেল ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে।

রাজনৈতিক বা ভিআইপি বন্দি নেই বলে আইজি প্রিজন জানিয়েছেন। “আমার কাছে রাজনৈতিক বা ভিআইপি বন্দি বলে কিছু নেই। এখানে রাজনৈতিক কোনো মামলা নেই। আমরা মামলার গুরুত্ব বা ধারা অনুসারে আলাদা করছি। কারাগারে ভিআইপি বন্দি নেই।”

খাবার মান ও প্রোটিন বিষয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের মাথাপিছু ৩৬ গ্রাম প্রোটিন দেওয়া হয়। সরকার এটি বাড়িয়ে ৫৪-৫৫ গ্রামে উন্নীত করেছে। তবে রান্নার স্বাদ নিয়ে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায়, কারা অধিদপ্তরে ১৪১ জন ডাক্তার রয়েছে, যার মধ্যে ২ জন কর্মরত। প্রয়োজন অনুযায়ী সিভিল সার্জন ১০৩ জন আছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ, কারাগারগুলোতে মাদক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা অর্জন এখনও চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত কি? কারাগারের নিরাপত্তা ও বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

Next News Previous News