ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অযৌক্তিক বলে মন্তব্য

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁদের দাবি—এই আন্দোলনের পেছনে অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে, যা দেশের প্রকৌশল শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবরোধ ও সহিংসতা চালিয়েছে। তাঁদের ভাষায়, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।” সংগঠনটি বিষয়টি গভীর তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

বক্তব্যে জানানো হয়, সম্প্রতি সরকারের উদ্যোগে একটি ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে, যেখানে ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা বেশি রাখায় পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁরা দাবি করেছেন, ওয়ার্কিং কমিটিকে পুনর্গঠন করে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন এবং বিভিন্ন সংস্থায় শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। তাঁদের ভাষায়, “এতে সরকারের প্রকৌশল কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।”

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা আরও জানান, তাঁদের আন্দোলন অতীতে কখনো সহিংস ছিল না। বরং অতিরিক্ত সময় কাজ করে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাঁরা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় ভবিষ্যতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়—সরকার তাঁদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।


সাম্প্রতিক আপডেট

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা উভয় পক্ষের দাবির যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করবে। তবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


প্রশ্ন হচ্ছে—এই দীর্ঘদিনের বিরোধ কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি নতুন করে প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা তৈরি করবে?

Next News Previous News