“নির্বাচনের তারিখ দিন”—হালুয়াঘাটের সমাবেশ থেকে জোরাল আওয়াজ বিএনপির
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জুলাইয়ে ‘বিচার শুরু’ হয়েছে বলে দাবি করে দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—এখন আর শুধু আলোচনা নয়, জনগণ চায় নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ।
হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, “জুলাই ঘোষণা হয়েছে। সংস্কার, ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচার শুরু হয়েছে। এখন দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গণঅভ্যুত্থানের একক দাবিদাররা বর্ষপূর্তি উদযাপন রেখে কক্সবাজারে অবকাশ যাপনে কেন? জাতি জানতে চায়।” তাঁর ভাষায়, “গণতন্ত্রের উত্তরণে নতুন কোনো চক্রান্তের জাল বুনতে চাইলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। যারা গণতন্ত্র উত্তরণে বাধা সৃষ্টি করবে, তারা দেশ ও জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
১/১১-এর পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আল্লাহ না করুন, সেরকম পরিস্থিতি যদি সত্যি সৃষ্টি হয় তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবে সরকার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী কিংস পার্টি ও তাদের সহযোগী দুটি দল।”
এ সমাবেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থনে ঢাকা ও গাজীপুরে নিহত হালুয়াঘাটের তিন শহীদ—বিজয় ফরাজী, সেলিম সেখ ও মুনিরের পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের স্মরণে শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত একটি বিজয় মিছিল হালুয়াঘাটের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট ও পৌর বিএনপির নেতারা, শহীদদের পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা।
এছাড়া এর আগে ধোবাউড়া উপজেলার জোকা গ্রামে পুলিশের গুলিতে নিহত সোহেল মিয়ার প্রথম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: গত কয়েকদিনে ময়মনসিংহে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ আন্দোলন ও বাকৃবিতে ১৫৪ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গণতন্ত্রপন্থীদের সক্রিয়তা আরও জোরালো করে তুলেছে।
প্রশ্ন থেকে যায়—জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মাঝে এই মুহূর্তে সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে কে?
