ইউক্রেন সংকটে ট্রাম্পের সমর্থন: ডনবাস ছাড়ের প্রস্তাব আলোচনায়
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়— ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিতে সম্মত হন, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। যদিও তিন বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চললেও রুশ বাহিনী পুরো ডনবাস দখল করতে সক্ষম হয়নি।
ইউরোপের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যে জানা যায়, আলাস্কায় বৈঠকের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট শর্ত দেন— যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকে ডনবাস থেকে সরে যেতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে আশ্বাস দেন, ফ্রন্টলাইনের অন্যান্য অংশে যুদ্ধবিরতি টানা হবে।
বর্তমানে রাশিয়া প্রায় পুরো লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্ক, স্লোভিয়ানস্ক ও দুর্গসদৃশ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়েছে। পুতিন ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, যদি ইউক্রেন দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক ছেড়ে দেয়, তবে তিনি খেরসন ও জাপোরিঝিয়া ফ্রন্টে অগ্রযাত্রা বন্ধ রাখবেন।
ট্রাম্প ডনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধবিরতির চেয়ে শান্তি চুক্তিই বেশি কার্যকর, কারণ যুদ্ধবিরতি অনেক সময় স্থায়ী হয় না।” এ মন্তব্য তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান— তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউরোপের সমর্থনে একটি ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তাদের স্পষ্ট বার্তা: “ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইউক্রেনেরই। আন্তর্জাতিক সীমানা বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না।”
জেলেনস্কিও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের লক্ষ্য একটি স্থায়ী ও বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যা শুধুই রুশ আগ্রাসনের মধ্যবর্তী আরেকটি বিরতি নয়।” তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া সরাসরি শান্তি চুক্তির পথে এগোনোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে এখনো ইউরোপীয় নেতাদের বড় অংশ অনড় রয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, তাই শান্তির কোনো পথ খোঁজা জরুরি হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন হলো— এই প্রস্তাব কি শান্তির পথ খুলে দেবে, নাকি ইউক্রেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে?
