ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এক বছর আগে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো এক তরুণের পরিবার এখনও শোকের ভার বহন করছে। পরিবার জানায়, প্রতিদিনই মনে হয় তিনি ফিরে আসবেন। কখনও পায়ের শব্দ শুনতে পান বলে মনে হয়, আবার কখনও কানে ভেসে আসে পরিচিত ডাক। পুরোনো জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে ধরেই শোক সামলান মা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর ভাষায়, “এসব কাপড়ে আমার সন্তানের ঘ্রাণ আছে। হাতে নিলে মনে হয় আমার পুত আছে।” প্রতিবেদন দেখানো ছবির দিকে তাকিয়েও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বললেন—“আজ তো সেই ছবিটাই আছে, কিন্তু আমার পুত নাই।”
গত বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় এলাকায় কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ হলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই তরুণ, যিনি পুরনো মোবাইল কেনাবেচা থেকে শুরু করে পরবর্তীতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। শতাধিক স্থানীয় যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছিল তাঁর উদ্যোগে।
পরিবার জানায়, মৃত্যুর দিন সকালেই প্রিয় মাছের তরকারি খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরে দোকানের কাজে বের হয়ে আর ফেরা হয়নি। বাবার আবেগঘন স্মৃতিচারণে উঠে আসে—“যে সন্তানকে মাথায় রেখে বড় করেছি, সেই সন্তানের লাশই কাঁধে তুলতে হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন সাহসী ও উদার। ছোটদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতেন, ফুটবল কিনে দিতেন। তাঁর না থাকাটা আজও এলাকাবাসীর কাছে অপূরণীয় শূন্যতা। পরিবার তাঁর নামে জমি দান করেছে, সেখানে একটি মক্তব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবিও একটাই—স্থানীয় সড়কের নাম পরিবর্তন করে তাঁর স্মৃতিকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখা হোক।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কবে হবে তা স্পষ্ট নয়।
প্রশ্ন থেকে যায়—এমন আত্মত্যাগ আর পরিবারগুলোর আহাজারি কি ভবিষ্যতের প্রজন্মকে নিরাপদ সমাজ গড়ার শিক্ষা দিতে পারবে?
