গাজা দখলের পরিকল্পনায় ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

গাজা পুরোপুরি দখলে নিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন— “এই পদক্ষেপ গাজা সংঘাতের অবসান ঘটাতে বা জিম্মিদের মুক্তিতে কোনও সাহায্য করবে না। বরং এটি আরও রক্তপাত ডেকে আনবে।”

তাঁর ভাষায়, “গাজায় প্রতিদিন মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ হচ্ছে এবং হামাসের হাতে জিম্মিদের অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো— আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং জিম্মিদের মুক্তি। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হামাসের আর গাজায় কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। তাদের নিরস্ত্রীকরণ এবং বিদায় নিশ্চিত করতে হবে।”

দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “শান্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে উভয় পক্ষ যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় না বসে, তাহলে এই সম্ভাবনাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।”

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন— “আমাদের বার্তা স্পষ্ট: একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব, কিন্তু তার জন্য উভয় পক্ষকেই ধ্বংসের পথ থেকে সরে আসতে হবে।”

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গাজা পুরোপুরি দখলে নিতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। সেই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বেসামরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদানেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ায়ির লাপিদও গাজা দখলের পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয় ডেকে আনবে’ বলে সতর্ক করেছেন।

গাজা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। এই অবস্থায় কূটনৈতিক উদ্যোগই কি একমাত্র আশার আলো হয়ে উঠতে পারে? পাঠক, আপনার মতামত কী?

Next News Previous News