“বিজেপি আমাদের আদর্শগত শত্রু, প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে”—তামিল রাজনীতিতে নতুন বার্তা থালাপতি বিজয়ের

দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতির মঞ্চে আসা থালাপতি বিজয় জানালেন, তাঁর দলের মূল আদর্শগত শত্রু হলো বিজেপি। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন ক্ষমতাসীন দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগামকে (ডিএমকে)। মাদুরাইয়ের এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে মূল লড়াই হবে “টিভিকে বনাম ডিএমকে”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে “ফ্যাসিবাদী” বলে আখ্যা দিয়ে বিজয় ঘোষণা করেন—এ লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আদর্শের যুদ্ধ। তাঁর ভাষায়, “বিজেপি একদিকে ধর্মকে ব্যবহার করছে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে, অন্যদিকে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে বিজেপি আমার কাছে সবচেয়ে বড় আদর্শগত শত্রু।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।”

ডিএমকের পাশাপাশি বিরোধী দল এআইএডিএমকের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন বিজয়। এমজিআর-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী দলটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন এমজিআর কে ছিলেন? যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার স্বপ্ন কেউ দেখতেও পারত না। অথচ তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল আজ কী অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে! নিরীহ কর্মীরা যন্ত্রণায় কাতর, অথচ মুখ খুলতে পারছে না।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজগম’ (টিভিকে) প্রথমবারের মতো বড় নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে ২০২৬ সালে। বিজয়ের লক্ষ্য, রাজনীতির তৃতীয় শক্তি হিসেবে দলকে প্রতিষ্ঠিত করা—যাতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ প্রেক্ষাপট:

ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে এ মুহূর্তে বিজেপির অবস্থান নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে দলটির প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে স্থানীয় দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের সরাসরি এই ঘোষণা আগামী নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

📌 প্রশ্ন হচ্ছে—তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থেকে রাজনীতির মাঠে আসা থালাপতি বিজয় কি সত্যিই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠতে পারবেন? নাকি প্রচলিত দুই শিবিরের শক্তিশালী কাঠামোর ভেতরেই তাঁর দলকে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে?

Next News Previous News