পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে ফের আলোচনা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে’ দাবি করলেও বাংলাদেশ সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।
ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান— “আমরা চাই, তিনটি বিষয় সমাধান হোক—যুদ্ধকালীন টাকাপয়সার হিসাব, গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা, আর আটকে পড়া মানুষদের ফেরত নেওয়া।”
তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময়ের সমস্যার সমাধান একদিনের বৈঠকে সম্ভব নয়। তবে উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে সমাধানের জন্য আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, “অমীমাংসিত ইস্যুতে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমরা একমত হয়েছি যে বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে, যাতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগোতে বাধা না হয়।”
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, তিনটি ইস্যুর সমাধান ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ তা নাকচ করে বলা হয়েছে—এখনো আলোচনা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের আলোচনা ইতিবাচক হলেও অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না হলে দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতি বারবার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনসহ তৃতীয় কোনো দেশের প্রভাব আছে কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা সরাসরি তা অস্বীকার করেছেন।
প্রশ্ন রয়ে গেল—দীর্ঘ ৫৪ বছর পরও যদি এই ইস্যুগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কতটা মসৃণ হতে পারে?
