ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে ইউরোপ
রাশিয়া অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেনে শান্তি প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় শক্তিগুলো বাধা দিচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “ইউরোপের যুদ্ধপন্থী দল এখনও ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
পেশকভ আরও জানান, “আমরা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু কিয়েভের পক্ষ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। সেই কারণে দেশটিতে আমাদের বিশেষ সামরিক অভিযান চলবে।”
পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনাদের আট বছরের সংঘাতের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো রাশিয়ার শান্তিচিন্তার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। যদিও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার জানিয়েছেন, তিনি শান্তি আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে দখলকৃত ভূখণ্ড ছাড়বেন না। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসোভ জানান, রুশ সেনারা সামরিক অভিযানের গতিবেগ বৃদ্ধি করেছে; বছরে দখল করা এলাকাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের তৃতীয় বছরে প্রবেশ করা এই সংঘাত ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে, তবে তাদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতি গুরুতর। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ বিদেশে শরণার্থী হয়েছেন এবং আরও লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে—ইউরোপীয় শক্তিগুলো কি সত্যিই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে, নাকি এই সংঘাতের জটিলতা অন্য কারণের সঙ্গে যুক্ত? শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোন পথটি সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে?
