ভারতকে চীনের দিকেই ঠেলে দিলেন ট্রাম্প?

ডয়চে ভেলে | ৩১ আগস্ট ২০২৫, ২২:৫৪

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীন সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিয়ানজিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের পর শান্তি, মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর প্রসঙ্গ উঠে আসে। এটি গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথম শীর্ষ বৈঠক।

মোদি বলেন, “ভারত ও চীনের ২০৮ কোটি মানুষের স্বার্থ এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত। পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।” শি জিনপিংও বলেন, “ড্রাগন আর হাতির একজোট হওয়া প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যোগ দেবেন। এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর শুল্ক ও জরিমানা আরোপ করেছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি নয়াদিল্লিকে বঞ্চিত করেছে। পাকিস্তানের ওপর চাপ না দিয়ে ভারত ও চীনের ওপর শুল্ক চাপানোয় নয়াদিল্লি নিজেকে অবহেলিত মনে করছে। এতে ভারত-চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী বলেন, “শত্রুর শত্রু আমার মিত্র”—এই বাস্তবতায় ভারত-চীন সম্পর্ক এগোচ্ছে। ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন এবং ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এতে ভারত নিজের পথ খুঁজছে।

আমেরিকা অভিযোগ করছে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন করছে। এজন্য ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক চাপানো হয়েছে। অন্যদিকে চীনের ওপর ৩১% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, ট্রাম্প ভারতকে নিশানা করছেন, অথচ রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক নরম। এতে ভারত-চীনের মধ্যে ব্যবসা বাড়লে আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। তবে অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা (যেমন ব্রিকস মুদ্রা) চালুর চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—ট্রাম্পের শুল্কনীতি কি সত্যিই ভারতকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নাকি এটি এশিয়ার বৃহৎ শক্তিগুলোর নতুন কূটনৈতিক কৌশল?

Next News Previous News