এনসিপির আক্রমণাত্মক ভুমিকা, সরকারের প্রতি কড়া সমালোচনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আক্রমণাত্মক ভুমিকা নিয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমালোচনা ও তীব্র বক্তব্য উঠে এসেছে দলটির শীর্ষ নেতাদের মুখে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও সরাসরি আক্রমণ করতে দেখা গেছে তাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এনসিপির কৌশল। তবে এর মধ্যেই দলের ভেতরে নানা বিতর্ক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে অন্তত ১৫ নেতার বিরুদ্ধে শোকজসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দলের নেতাদের অভিযোগ—বিভিন্ন মহল তাদের “কিংস পার্টি”র তকমা দিলেও সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা পায়নি এনসিপি। বরং লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক ও নির্বাচনী সময়সীমার পরিবর্তন সরকারের বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত বহন করে বলেই মনে করছে দলটি।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন—“প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে সিজদা দিয়ে এসেছেন।” তাঁর ভাষায়, বিএনপির আপত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র কাটছাঁট এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিই সরকারের প্রতি আস্থা কমিয়েছে।

দলের ভেতরে ভিন্নমতও প্রকাশ পেয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেছেন, ঘোষণাপত্রে প্রত্যাশিত সংস্কার অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা হতাশ। এ প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন—“জুলাই ঘোষণাপত্রের অপব্যবহার আমাদের সত্যিই সরকারের বিষয়ে চিন্তায় ফেলেছে।”

এদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা করছেন, যদি জুলাই সনদ নিয়েও একই ধরণের ছাঁটাই ও আপস করা হয়, তবে তারা নির্বাচন বর্জন করতেও পারে। একই সঙ্গে দলটি সংস্কার, বিচার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মন্তব্য করেছেন—“আমরা একটি দল দাঁড় করিয়েছি, যে দলটি মানুষের স্বাধীনতার কথা বলবে। কিন্তু বর্তমান আলাপ-আলোচনা দেখে মনে হচ্ছে আবারও পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজনীতি।”

সর্বশেষ সূত্রমতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিএনপি নির্বাচিত সংসদের হাতে বাস্তবায়ন চাইলেও, এনসিপি ও অন্যান্য দল গণভোট বা গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে তা কার্যকর করার পক্ষে অনড় রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে এনসিপি মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করেছে, যুব সম্মেলন করেছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“আমরা জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দিয়েছি, কিন্তু জুলাই সনদে কোনো ছাড় দেব না। পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে যেতে হবে।”

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—এনসিপির এই আক্রমণাত্মক কৌশল কি সত্যিই তাদেরকে রাজনীতির “গেম চেঞ্জার” করে তুলবে, নাকি অভ্যন্তরীণ বিভাজনই দলটির শক্তি ক্ষয় করবে?

Next News Previous News