“গোপালগঞ্জ এখন ফ্যাসিবাদের আশ্রয়কেন্দ্র”— এনসিপি আহ্বায়কের কড়া হুঁশিয়ার

ফরিদপুর থেকে: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোপালগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবারও মুখ খুলেছে। দলটির আহ্বায়ক এক উত্তাল জনসভায় দাবি করেছেন, “গোপালগঞ্জ এখন ফ্যাসিবাদ এবং ডেভিলদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।” তাঁর কণ্ঠে ছিল প্রত্যাবর্তনের অঙ্গীকার—“আমরা আবারও গোপালগঞ্জ যাবো, এই যাওয়া শেষ যাওয়া নয়।”

বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে অনুষ্ঠিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, “জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে যাব। গোপালগঞ্জের মাটি এবং সাধারণ মানুষকে চিরতরে মুক্ত করে তারপরে ঘরে ফিরে আসবো।”

তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে গোপালগঞ্জে শুরু হওয়া তাদের প্রতিবাদী পদযাত্রা থামবে না এবং আগামী ৩ আগস্টের মধ্যেই সারা দেশের পদযাত্রা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফরিদপুরে আগত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউস থেকে পদযাত্রা শুরু করে সমাবেশস্থলে পৌঁছান দুপুর ২টা ১০ মিনিটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সচিব ডা. তাসনিম জারা, জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নাসিরউদ্দিন পাটুয়ারীসহ ফরিদপুর ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এদিকে, গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে কিছু ট্রল ও সমালোচনার কারণে প্রশাসনের ভেতরেও কিছু রদবদল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন এএসপি কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাঝে এনসিপির প্রতিবাদ আরও দৃঢ় হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—পদযাত্রার এই ঢেউ কেবল গোপালগঞ্জে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দেশব্যাপী নতুন রাজনৈতিক স্রোতের জন্ম দেবে?

Next News Previous News