সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা সৌদির, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা—এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব জানিয়ে দিল কড়া বার্তা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ার ভূখণ্ডে চালানো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে এই হামলাকে "সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছে রিয়াদ।
বিবৃতিতে সৌদি আরব সিরিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে সিরিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
তাঁদের ভাষায়, “চলমান ইসরায়েলি হামলা ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে অবস্থান নিতে হবে।”
এ নিয়ে গত বুধবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে কথা বলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইসরায়েলি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া।
এই ফোনালাপের ঠিক আগে ইসরায়েল দামেস্কে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ বিধ্বস্ত হয় এবং প্রেসিডেন্ট ভবনের পাশেও হামলার ঘটনা ঘটে।
এই হামলাকে বিশ্লেষকেরা দেখছেন সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক বার্তা হিসেবে। যদিও সম্প্রতি শারার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গেও কিছু নিরাপত্তা যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার সোয়েইদা শহর ও আশপাশে ভয়াবহ সহিংসতা চলছে। বিশেষ করে সরকারপন্থী বাহিনী, দ্রুজ যোদ্ধা ও বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। তবে সাম্প্রতিক হামলার মাত্রা ও লক্ষ্যবস্তু বিষয়টিকে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।
আপনার কি মনে হয়—মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা কি বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে? মন্তব্যে জানাতে পারেন আপনার মতামত।
