শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রিজভীর বিস্ফোরক অভিযোগ, গোপালগঞ্জ সহিংসতার জন্য সরাসরি দায়ারোপ
নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এক সমাবেশে দাবি করেছেন, সরকার বাংলাদেশকে যেন 'সোনার খনি' মনে করছে—আর সেটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গিয়ে 'প্রয়োজনে আরও রক্ত ঝরাতে প্রস্তুত'। তাঁর ভাষায়, “শেখ হাসিনা লোভ সামলাতে পারছে না। সে প্রয়োজনে আরও রক্ত ঝরাবে, আরও চক্রান্ত করবে, আরও লাশ ফেলবে।”
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। “তাঁর ভাষায়, ‘যেকোনো মূল্যে তাদের গোপালগঞ্জে প্রবেশ ঠেকাতে নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমনকি জীবনের বিনিময়েও।’”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মন্তব্যগুলো এসেছে বরিশালে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে।
এনসিপি-সরকার সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব
সমাবেশে রিজভী বলেন, এনসিপি একটি নতুন ছাত্রনেতৃত্বাধীন দল হলেও, তাদের ওপর দমনপীড়ন চলছে। এর পেছনে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আফসোস করে বলেন, “এককভাবে কিছু করা যায় না… আজ যদি সম্মিলিত রাজনৈতিক ঐক্য থাকত, তাহলে কোনো স্বৈরশাসক সাহস পেত না গণতন্ত্র রুদ্ধ করার।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্টভাবে কাজ করছে। ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা তুলে ধরেন।
তারেক রহমানকে ঘিরে অপপ্রচার: প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
রিজভীর ভাষায়, “সন্ত্রাসীদের ধরবে কে? রাজনৈতিক দল না পুলিশ? তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দূরে থাকা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
খুলনায় বিএনপির এক নেতার ওপর গুলি, চাঁদপুরে ইমামের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এসব ঘটনায় কোনো স্লোগান, কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। বরং বিএনপিকে টার্গেট করেই চলছে নানা প্রচার।
গোপালগঞ্জের ঘটনা ও এনসিপির সাথে উত্তেজনা
গোপালগঞ্জে এনসিপি কর্মীদের ওপর ‘চক্রান্তমূলক হামলার’ দায়ও বর্তেছে সরকারের ওপর। রিজভীর মতে, “গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাইরে নয়, তাহলে সেখানে এনসিপির ওপর এমন হামলা কীভাবে হলো?”
তিনি আরও বলেন, “হাসিনা পাশের দেশে থাকে, কিন্তু এখানেই তার ছায়া বিস্তার করেছে। সে চায়না বাংলাদেশে শান্তি, চায় রাজত্ব, বিরোধীদের রক্ত আর লাশ।”
বেগম জিয়ার সংগ্রাম ও বর্তমান পরিস্থিতি
বেগম জিয়ার ত্যাগ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনেই গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। সেই প্রতিবাদ করতে গিয়েই আমাদের নেত্রীকে কারাবরণ করতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যে কারাগার পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, সেইখানেই বন্দি করা হয় বেগম জিয়াকে—শুধু তাকে দমন করতেই।”
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের প্রতি বার্তা
রিজভী সমাবেশে বলেন, “আপনারা আমাদের নেত্রীকে অপমান করেছেন, তবুও আমরা প্রতিশোধে না গিয়ে প্রকৃত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা বলেছি। আপনারা যেন সেই ঐক্য বিনষ্ট না করেন।”
সমাবেশ ও শোকর্যালি
সমাবেশ শেষে একটি শোকর্যালি বের করা হয়। এতে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। র্যালিটি নগরীর সদর রোড হয়ে আমতলার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। রিজভী বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের স্মরণে এই আয়োজন, যারা দানব শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।”
নজরদারিতে থাকা পরিস্থিতি: গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন ছাত্র নেতৃত্বের উত্থান ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা মহলে চলছে বিশ্লেষণ।
প্রশ্ন রইলো: একযোগে বিরোধী শক্তির ঐক্য গড়ে উঠবে কিনা, নাকি ভাঙনের রাজনীতিতেই চলবে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ?
