গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: দ্বিতীয় দিনের মতো কারফিউ, গ্রেফতার ৪৫
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলাজুড়ে চলছে কারফিউ। আজ বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টার বিরতির পর, দুপুর ২টা থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে কারফিউ কার্যক্রম।
সকাল থেকেই শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। প্রধান সড়কগুলোতে গাড়িঘোড়া চলাচল সীমিত, অলিগলি প্রায় জনশূন্য। তবে জরুরি সেবাসমূহ চালু রয়েছে।
এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সকালের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পড়ার মতো কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিকে, গত ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রার পূর্ব মুহূর্তে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার নাম রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “নিউটন মোল্লা ও আতাউর পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।”
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি: স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবে এবং প্রয়োজন হলে কারফিউয়ের সময় বাড়ানো হতে পারে।
এই পরিস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
প্রশ্ন রইলো—এই সহিংসতা কি শুধুই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক অসন্তোষ?
