ইরান প্রতিদিন হামলা চালাতে পারবে দুই বছর! তীব্র হুঁশিয়ারি বিপ্লবী গার্ডের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন চরমে, তখন ইরান জানাল তার যুদ্ধ সক্ষমতার ভয়ঙ্কর চিত্র। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরান টানা দুই বছর ধরে প্রতিদিন ইসরায়েলে হামলা চালাতে সক্ষম।

তাঁর ভাষায়, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির অবস্থানে রয়েছে। আমাদের যে ওয়্যারহাউস, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ আমরা এখনও প্রকাশ করিনি।”

এই মন্তব্যটি দিয়েছেন তিনি একটি ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ইরানের এই শক্তিশালী বার্তা শুধু কথার ঝড় নয়—বরং গোপন সামরিক স্থাপনার বিষয়েও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাব্বারির দাবি, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বেঁধে গেলেও, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শেষ হবে না। তাঁর ভাষায়, “টানা দুই বছর ধরে প্রতিদিন ব্যবহারের পরও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হবে না।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রাহিম সাফাভিও এদিন একই সুরে হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর মতে, “ইহুদিবাদীরা জানে যে এখনও আমাদের কিছু শক্তি — যেমন নৌবাহিনী ও কুদস ফোর্স — যুদ্ধে প্রবেশই করেনি। এমনকি ইরানের সেনাবাহিনীও সম্পূর্ণরূপে মাঠে নামেনি।”

তিনি আরও জানান, “এ পর্যন্ত আমরা কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করেছি এবং সেগুলো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে।”

পটভূমি: কীভাবে শুরু হলো এই সংঘাত?

গত ১৩ জুন হঠাৎ করেই ইসরায়েল আঘাত হানে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর উপর। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রাণ হারান অন্তত ৯৩৫ জন এবং আহত হন ৫ হাজার ৩৩২ জনের বেশি।

জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা আঘাত হানে। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ২৯ জন নিহত ও আহত হন ৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

  • ইরান দাবি করেছে, এখনো তার সামরিক বাহিনীর পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করা হয়নি।
  • ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্র সতর্ক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
  • বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুদ্ধের পরিণতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে।

প্রশ্ন রয়ে যায়: এই যুদ্ধ কি কেবল শুরু, না কি সামনে অপেক্ষা করছে আরও ভয়ানক সংঘর্ষ?

Next News Previous News