অলিখিত ফাইনাল কাল! শ্রীলঙ্কার মাটিতে ইতিহাস গড়তে নামছে বাংলাদেশ
প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। তাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রূপ নিচ্ছে এক অলিখিত ফাইনালে—যেখানে জয় মানেই ইতিহাস গড়া।
প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় মাঠে নামবে টাইগাররা। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
প্রথম ম্যাচে লজ্জাজনক হার, দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে প্রত্যাবর্তন
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ছিল অনিশ্চিত, তবে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ১৬ রানে জয় নিশ্চিত করে সমতায় ফেরে দলটি।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০টি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে জয় এসেছে মাত্র দুটি সিরিজে। ড্র হয়েছে দুটি, আর ছয়টি সিরিজ জিতেছে লঙ্কানরা। তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে এখনো কোনো সিরিজ জেতেনি টাইগাররা।
ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ
একটি পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ মাত্র একবারই সিরিজ জিতেছে—তা-ও ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এবার সেই সুযোগ বিদেশের মাটিতে, তাও প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের পর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, “আমরা সেদিন যেভাবে হেরেছি সেটি মেনে নিতে পারিনি। কিন্তু আমরা মনোবল হারাইনি। আমরা জানতাম, সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। অবশ্যই চূড়ান্ত লক্ষ্য হল সিরিজ জয় এবং আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
পাল্লেকেলের মাঠে কঠিন পরীক্ষা ব্যাটারদের
পাল্লেকেলের পেসবান্ধব ব্যাটিং উইকেটে সফল হতে হলে বড় দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের। আর এখানেই দুর্বলতা বাংলাদেশের—ধারাবাহিকতার অভাব। মিডল অর্ডারে শান্ত-হৃদয়রা এখনও নিজেদের সেরা ফর্মে ফিরতে পারেননি। ফলে, সিরিজ জিততে হলে ব্যাটারদেরই হতে হবে পার্থক্য গড়ে দেওয়া মুখ।
পরিসংখ্যান বলছে, চ্যালেঞ্জ কঠিন
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৫৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জয় এসেছে মাত্র ১৩টিতে, হেরেছে ৪৪টিতে, আর ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।
তাসকিন ফিরলে বাড়বে শক্তি
তবে স্বস্তির খবর, পূর্ণশক্তির দল পাচ্ছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রামে থাকা পেসার তাসকিন আহমেদ ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিন ফিরলে বাদ পড়তে পারেন হাসান মাহমুদ, যিনি দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে একাদশে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
শেষ কথা
বাংলাদেশ কি পারবে এবার ইতিহাস গড়তে? পাল্লেকেলের এই ‘অলিখিত ফাইনাল’-এ লড়াইটা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নয়—এটা এক অভিশাপ ভাঙার লড়াই, এক নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনা। দর্শক হিসেবে আপনি কি মনে করেন, টাইগাররা পারবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই স্বপ্ন পূরণ করতে?
