ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ছয় বাংলাদেশিকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর

ভারত থেকে দালালের সহায়তায় ফেরার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই সীমান্তে ছয় বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার ভোররাতে ভারতের সোনামতি ক্যাম্প এলাকায় ওই ছয়জনকে আটক করে বিএসএফ। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। ছুটিতে দেশে ফেরার পথে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তারা ধরা পড়েন।

পরে দুপুরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি জানায়, আটককৃতরা সবাই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, “আমরা ছয়জনকে পেয়েছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বালিয়াডাঙ্গী থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।”

রংপুরে ‘মৃত’ ঘোষণা সিটি কর্পোরেশনকে, অভিনব প্রতিবাদ সড়ক সংস্কারের দাবিতে

রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। গর্তে ভরা রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের দুর্ভোগে সিটি কর্পোরেশনকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে গায়েবানা জানাজা পড়েছেন তারা।

রোববার দুপুরে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় যুবকসহ অনেক ভুক্তভোগী। তাঁরা বলেন, “নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কোনো মাথাব্যথা নেই। বারবার বলার পরেও সংস্কার করা হচ্ছে না।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে উড়ছে ধুলোর ঝড়।

রিকশা ও ভ্যানচালকরা বলছেন, “প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে।”

এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “পুরো সিটিতে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এজন্য ২১০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

সতর্ক বার্তা ও ভাবনার জায়গা

সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের সক্রিয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এলো। একই সঙ্গে রংপুর নগরবাসীর দুর্ভোগ যেন অব্যাহত অবহেলার প্রতিচ্ছবি।

প্রশ্ন থেকে যায়—সীমান্ত পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরা এই মানুষগুলোর দায় কে নেবে? আর নাগরিক দুর্ভোগের প্রশ্নে, বাজেট না থাকলে কি প্রতিটি সমস্যার সমাধান থেমে থাকবে?

Next News Previous News